April 19, 2026, 6:42 pm

র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে বন্দরে চার সদস্যের সংঘবদ্ধ চক্র গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজনকে আটক করেছে বন্দর থানা পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বন্দর থানার জাংগাল হাজী পার্কিং ও এসকিউ এলাকার সামনে পাকা সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) খায়রুল বাশার ও সঙ্গীয় ফোর্স চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায়।

এসময় সন্দেহভাজন একটি হায়েস মাইক্রোবাস (রেজি. নং- ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৮০৪৬) আটক করা হয়। তল্লাশিকালে গাড়ি থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে চারটি র‌্যাবের ব্যবহৃত জ্যাকেট, একটি কালো রঙের হ্যান্ডকাফ, একটি খেলনা সদৃশ ওয়াকিটকি, একটি সিগন্যাল লাইট, একটি ইলেকট্রিক শক যন্ত্র এবং দুটি স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে যে, তারা র‌্যাব পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও ডাকাতি সংঘটিত করে আসছিল।গ্রেফতারকৃতরা হলেন –
১. মো. আলমগীর হোসেন (৪২) – অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী; পিতা: মৃত দলিল উদ্দিন খন্দকার; ঠিকানা: চররঘুনাথদ্দী, বাউফল, পটুয়াখালী।২. মো. মামুন সরকার (৪৩) – অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল, রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস; পিতা: আব্দুল হক সরকার; ঠিকানা: আউলিয়াপুর, পটুয়াখালী সদর।

৩. মো. এনামুল হক (৩৩) – পিতা: মৃত আব্দুল কদ্দুস; ঠিকানা: গেরাবুনীয়া, আমতলী, বরগুনা।৪. মো. শফিকুল ইসলাম (৫৬) – পিতা: আনোয়ার আলী; ঠিকানা: রামনগর, বাউফল, পটুয়াখালী।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া র‌্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি’ আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, “এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল। তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জোরদার হবে।”

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা